যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: - দশ আনন যার - দশানন। নয় নমনীয় যা = অনমনীয় (নঞ বহুব্রীহি), জনের মুখ হতে শ্রুত যা - জনশ্রুতি। (বহুব্রীহি) তপের নিমিত্তে বন = তপোবন (চতুর্থী তৎপুরুষ), খাস যে মহল = খাসমহল (কর্মধারয়)। ব্যাসবাক্য বিবেচনায় বহুব্রীহি সমাসবদ্ধ পদ হচ্ছে ‘জনশ্রুতি’। সুতরাং সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর অপশন ‘ক’ জনশ্রুতি। বহুব্রীহি সমাস: দশ আনন যার = দশানন। এখানে ‘দশ’ ও ‘আনন’ এই দুটি পদের সমাস হয়েছে, কিন্তু সমাস-নিষ্পান্ন পদটি এই পদ দুটির কোনটির অর্থ প্রকাশ করছে না। সমাসবদ্ধ পদে দশ আনন (মুখ) বিশিষ্ট ব্যক্তিকে (রাবন) বোঝানো হয়েছে। ‘বহুব্রীহি’ পদটিই বহুব্রীহি সমাস নিষ্পন্ন, বহু (অনেক) ব্রীহি (ধান) আছে যার; সে বহুব্রীহি (ধনী লোক)। এখানে ‘বহু’ এবং ‘ব্রীহি’ সমস্যমান পদ দু’টির যোগে সমস্ত পদটির দ্বারা একটি তৃতীয় পদের (এখানে ধনী ব্যক্তির) প্রাধান্য পেয়েছে। এই রকম সমাসকে বহুব্রীহি সমাস বলে।