Subject
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
Topic
ইতিহাস ও সংস্কৃতি
নীল চাষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সূচনা হয়?
নীল চাষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সূচনা হয়?
ক)
মুর্শিদাবাদেখ)
ময়মনসিংহেগ)
কুষ্টিয়ায়ঘ)
ঢাকায়Explanation
নীল বিদ্রোহের সূচনা নিয়ে বিভিন্ন উৎসে কিছুটা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়, তবে কুষ্টিয়া জেলার চৌগাছা থানার তেতুলিয়া গ্রাম এবং বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিদ্রোহের শুরু একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। তথ্যের বিশ্লেষণ: তেতুলিয়া গ্রামে বিদ্রোহের সূচনা: ১৮৫৯ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার চৌগাছা থানার তেতুলিয়া গ্রামে নীল বিদ্রোহের একটি বড় ঘটনা ঘটে। বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস নীলকরদের দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান, যার ফলে তাকে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় গ্রামের কৃষকরা সংঘবদ্ধ হয়ে নীলকরদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাসের ভূমিকা: বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস এবং তার ছেলে দিগম্বর বিশ্বাস এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। তারা কৃষকদের সংগঠিত করে নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এটি নীল বিদ্রোহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: নীল বিদ্রোহের সূচনা নিয়ে বিভিন্ন উৎসে ভিন্ন ভিন্ন স্থান উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, নদীয়া জেলা এবং যশোর অঞ্চলকেও বিদ্রোহের প্রাথমিক কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। তবে কুষ্টিয়ার তেতুলিয়া গ্রামের ঘটনাটি বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান উদাহরণ। প্রশ্নে যশোর বা নদীয়া না থাকলে কুষ্টিয়া দিতে হবে। আরও বিস্তারিতঃ - ১৭৭০ থেকে ১৭৮০ সালের মধ্যে ইংরেজ আমলে বাংলাদেশে নীল চাষ শুরু হয় কারণ এ সময় নীল ব্যবসা ছিল খুবই লাভজনক। - নীল চাষের জন্য কৃষকদের অগ্রিম অর্থ গ্রহণে ( দাদন ) বাধ্য করা হতো এবং পরে নীল চাষে রাজি না হলে কৃষকের উপরে চরম অত্যাচার চালানো হতো। - ফরিদপুর, যশোর, ঢাকা, পাবনা, রাজশাহী, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ব্যাপক নীল চাষ হতো। - নীল চাষীরা ১৮৫৯ সালে নীল চাষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ গড়ে তোলেন। - এ নীল বিদ্রোহের অত্যাচারের কথা দীনবন্ধু মিত্রের লেখা ‘নীলদর্পণ’ নাটকের কাহিনীর মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। - যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামে দুই ভাই। - হুগলিতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার। - নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই। - চাষীদের এ বিদ্রোহের কারণে ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ‘ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন’ গঠন করে নীল চাষকে কৃষকদের ‘ইচ্ছাধীন’ বলে ঘোষণা দেয় যার পরিপ্রেক্ষিতে নীল বিদ্রোহের অবসান হয়। - পরবর্তীতে কৃত্রিম নীল আবিষ্কৃত হওয়ায় ১৮৯২ সালে এদেশে নীল চাষ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।Related questions
বাঁশের কেল্লা খ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী কে?বাংলায় মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?কি কারনে বাংলাদেশ হতে নীল চাষ বিলুপ্ত হয়?তেভাগো আন্দোলনের নেত্রী কে ছিলেন?হাজী মোহাম্মদ মহসীন এর বাড়ি কোথায়?ভারতের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক শুরুর স্থান –বাংলাদেশে ফরায়েজী আন্দোলনের সূচনাকারী কে?জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী—এটি কার ঘোষণা?
