- সমাজসংস্কারক, ধর্মসংস্কারক, চিন্তাবিদ, বহুভাষাবিদ পণ্ডিত ও বাংলা গদ্যের প্রস্তুতিকালীন লেখকদের অন্যতম রাজা রামমোহন রায়। - সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন, জুরির বিচার, সম্পত্তিতে স্ত্রীলোকদের অধিকার, পাশ্চাত্য শিক্ষার সম্প্রসারণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে তিনি পথিকৃৎ। - মূলত ধর্মসংস্কার সমাজসচেতনতার বশবর্তী হয়ে বাংলা গদ্য লিখেছেন। - রাজা রামমোহন রায় ২২ মে, ১৭৭২ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। - তাঁর ছদ্মনাম শিবপ্রসাদ রায়। পিতা- রাধাকান্ত রায়, মাতা- তারিণী দেবী। - তিনি পাঠ্য পুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম বাংলা গদ্যরীতির ব্যবহার করেন। - বাংলা প্রবন্ধ রচনার প্রথম কৃতিত্ব রাজা রামমোহন রায়ের । - তিনি ‘ব্রাহ্মণ সেবধি’ (১৮২১), ‘সম্বাদ কৌমুদী' (১৮২১), ‘মিরাৎ-উল-আখবার’ (১৮২২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন। - তার একেশ্বরবাদের ওপর আরবি ও ফারসি ভাষায় লিখিত ‘তুহফাউল মুয়াহিদ্দীন’ ১৮০৩ সালে প্রকাশিত হয় । - তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৮৩৩ সালে মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে ব্রিস্টলে স্টেপল্টনে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেনঃ - ‘ইউনিটারিয়ান কমিটি’ নামক ধর্মসভা- ১৮২১। - ‘অ্যাংলো হিন্দু স্কুল’-১৮২৩। - একেশ্বর উপাসনার লক্ষ্যে ‘আত্মীয়সভা’- ১৮১৫। - দেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ‘হিন্দু কলেজ’- ১৮১৭ - প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় ‘ব্রাহ্ম-সমাজ’- ১৮২৮ - গৌড়ীয় ব্যাকরণ' (১৮৩৩): এটি ১৮২৬ সালে প্রথম ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়। - ‘বেদান্ত গ্রন্থ' (১৮১৫): এটি তাঁর প্রথম গ্রন্থ। পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য বিষয় নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের জন্য তিনি এ গ্রন্থটি রচনা করেন। - ‘গোস্বামীর সহিত বিচার’ (১৮১৮): সতীদাহ প্রথার অসারতা প্রসঙ্গে। - ‘প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ' (১৮১৮): সতীদাহ প্রথার অসারতা প্রসঙ্গে। - ‘বেদান্তসার’ (১৮১৫), - ‘ভট্টাচার্যের সহিত বিচার’ (১৮১৭)।